মহিউদ্দিন আহমেদ
পৃথিবীর দ্রুততম সর্ববৃহৎ মেমোরি লাইব্রেরী শিরোনাম দেখে হয়তো ভাবছেন গুগলের কথা বলছি। প্রযুক্তির দিক থেকে বৃহৎ তথ্যভান্ডার গুগোল হলেও দ্রুত সময়ে আপনার জীবনের সকল ঘটনা বর্ণনা অর্থ গুগল সরবরাহ কি করতে পারে। পারেনা কারণ গুগোল কোন ব্যক্তি বিশেষের জীবনের সকল রেকর্ড সংরক্ষণ করে না। ধরুন আপনাকে যদি বলা হয় স্কুলে যখন ভর্তি হলেন প্রথম সেদিনের ঘটনা বা ৬০-৭০ বছর পূর্বের কোন ঘটনা বলতে তা আপনি চট করেই অনর্গল বলতে পারবেন।
গুগলকে যদি একটি রেকর্ড দিতে বলেন সেদিকে কতটা সময় নিবে তা আপনার ইন্টারের ইন্টারনেটের গতির উপর নির্ভর করে। আবার যা চাচ্ছেন তা না দিয়ে ভুলভাল তথ্য দিতে পারে। কিন্তু আপনার নাম ভুল তথ্য যেমন দিবে না তেমনি সময়ক্ষেপণও করবে না।
ধরুন আপনি কি বোর্ড লিখছেন এমন সময় আপনার পায়ে একটি মশা বসলো তখন আপনার নার্ভ থেকে সংকেত দেবে যে আপনার পায়ের অংশে একটি মশা বসেছে। তাকে ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে থাপ্পড় দিন কারণ এর বেশি বা কম হলে আপনি ব্যথা পেতে পারেন প্রথম শ্রেণী থেকে উত্তর থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত আমাদের কত না লেখাপড়া পড়তে হয়। যার ছবি সংরক্ষিত থাকে মস্তিষ্কের নার্ভ সিস্টেম। একজন গবেষক এর তথ্য ভাণ্ডার তার মস্তিষ্ক পৃথিবীর উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটিয়েছে।
মানবদেহের এই মস্তিষ্ক গুগল তৈরি করেছে এই মস্তিষ্ক আর এই মস্তিষ্ক দান করেছেন মহান মহান আল্লাহতালা। তাঁর এই মহান দানের জন্য আল্লাহর দরবারে লাখো-কোটি শুকরিয়া জানাই। আবার এই মস্তিষ্ক রক্ষা করার জন্য আল্লাহতালা মস্তিষ্কের চারপাশে একটি আবরণ বা রক্ষা প্রাচীর তৈরি করে দিয়েছেন। যার নাম ব্লাড ব্রেইন বেরিয়ার। রক্ত দিয়ে মস্তিষ্কে কি যাবে তা রেকর্ড করে ওই পর্দা কবে ওই পর্দা নিকোটিন ও অ্যালকোহল আটকাতে পারেনা। এ কারণেই আল্লাহতালা হয়তো এই দুটি পদার্থকে হারাম হিসেবে গণ্য করেছেন মস্তিষ্ক থেকেই মানবদেহ নিয়ন্ত্রিত হয় আর এই মানবদেহ গোটা পৃথিবীতে নিয়ন্ত্রণ করে।
একবার ভাবুন আপনার জীবনের সমস্ত ঘটনা ও তথ্য প্রবাহ সংরক্ষণ করতে কত বড় একটি লাইব্রেরীর প্রয়োজন পড়তো। আবার যদি গুগলের মত একটি প্লে স্টোর চালাতে হতো তাহলে কত গুগলের প্রয়োজন পড়তো। অথচ মহান আল্লাহতালা আমাদেরকে দান করেছেন।
অথচ আমরা যার কোন যত্নই নিচ্ছি না অথচ আমার হাতে থাকা ডিভাইসটি দিনে কতবার পরিষ্কার করি তা নিজেই ভেবে দেখুন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে তোমরা কি নিজেদের নিয়ে ভাববে সূরা যারিয়াত আয়াত ২১ আধুনিক বিশ্ব চিন্তায় ও রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। মানবদেহের ইনার সিস্টেম থেকে আমরা এবার দেখতে চাই এই মস্তিষ্কে কি আছে। মানুষের মস্তিষ্কে আছে ১০০ বিলিয়নের বেশি নিউরন বানার। একটি গমের দানার সমপরিমাণ মস্তিষ্ক কিছুতে ১ লাখের মতো নিউরন থাকে যেগুলো পরস্পরের সঙ্গে ১ বিলিয়ন বন্ধন তৈরি করে মস্তিষ্কে প্রায় ১০ হাজার রকমের নিউরন রয়েছে।
মস্তিষ্কের আদেশ এসব নিউরন এর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক তরঙ্গের আকারে পৌঁছে আবার এসব তরঙ্গের গতি ঘন্টায় চারশো কিলোমিটার বা তার চাইতেও বেশি প্রতিদিন মস্তিষ্ক ১২ থেকে ২৫ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। শরীরের প্রয়োজনে যে খাবার খায় তার পাঁচ ভাগের খরচ হয় মস্তিষ্কের শক্তি উৎপাদনের জন্য এই খাদ্য ও অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১৪০ থেকে ৮০ লিটার রক্তে পরিবাহিত হয়। ২৪ ঘন্টায় মজার কথা হল মস্তিষ্কে ২২০০০০০ সেল আছে মানুষ তার মাত্র ৩ শতাংশ ব্যবহার করে যারা খুব জ্ঞানী তারাও এর মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করে অর্থাৎ সবচাইতে জ্ঞানী ব্যক্তি ও ৯০% ব্যবহার করে না যদি করতে পারতো তাহলে বিশ্ব আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে তা একবার ভেবে দেখুন।
মুঠোফোন বা কম্পিউটারে যেমন মেমোরি স্পেস থাকে তেমনি আমাদের মস্তিষ্কের মেমোরি স্পেস আছে। মস্তিষ্কের মেমরীস্পেস নিয়ে গবেষণা তথ্য নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজির অধ্যাপক ডক্টর পল রোবার উল্লেখ করেছেন যে মানুষের মস্তিষ্কে রয়েছে ১০০ কোটি বা ১ বিলিয়ন নিউরন প্রতিটি নিউরন একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। যার গাণিতিক সংখ্যা হবে এক ট্রিলিয়নেরও বেশি। মস্তিষ্কের তরঙ্গের গতি এতটাই বেশি যা ১২ থেকে ২৫ ওয়াট এলইডি বিদ্যুৎ বাল জ্বালাতেও সক্ষম।
অধ্যাপক রোবার উল্লেখ করেন ব্রেন যদি সর্বাধুনিক ভিডিও রেকর্ডার এর মত মেমোরি ধারণ করে তাহলে সেই মেমোরি যদি কোন টিভিতে অবিরাম সম্প্রচার করা হয় তাহলে তা প্রচার করতে লাগবে প্রায় তিন শতাধিক বছর বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন ব্রেনের মেমোরি ধারণ ক্ষমতা কমপক্ষে দুই দশমিক ৫ পেটাবাইট অথবা ১ মিলিয়ন জিবি বা ১০০০০০০ গিগাবাইট ধারণক্ষমতা রয়েছে মস্তিষ্কের মেমোরি কার্ডের। তাই আমরা বলতেই পারি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মেমোরি কার্ড বা দ্রুতগতির সর্ববৃহৎ লাইব্রেরী মানুষের মস্তিষ্ক সবশেষে এই মহান দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আরেকবার শুকরিয়া আদায় করি সুবহানাল্লাহ।